| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আসকের প্রতিবেদন: মব সহিংসতা ও হেফাজতে মৃত্যুতে ২০২৫ ভয়াবহ

বিদায়ী বছরে মব সন্ত্রাসে নিহত প্রায় ২০০, কারাগারে মৃত্যু ১০৭

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০১, ২০২৬ ইং | ২২:১৯:০৫:অপরাহ্ন  |  78431 বার পঠিত
বিদায়ী বছরে মব সন্ত্রাসে নিহত প্রায় ২০০, কারাগারে মৃত্যু ১০৭
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে মব সন্ত্রাস ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরজুড়ে গুজব ও সন্দেহের বশে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ, পাশাপাশি কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। মব সন্ত্রাস, কারা হেফাজতে মৃত্যু এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

বুধবার প্রকাশিত আসকের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২৮ জন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো প্রমাণ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সন্দেহ ও গুজবের ভিত্তিতে মানুষকে মারধর ও হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাসহ একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাঁকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়া হলেও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া রংপুরের তারাগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ১০৭ জন, যেখানে আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৫। নিহতদের মধ্যে ৬৯ জন ছিলেন হাজতি এবং ৩৮ জন কয়েদি। সর্বাধিক ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। এসব মৃত্যু বন্দিদের প্রতি আচরণ, চিকিৎসা ও মানবাধিকার মানদণ্ড নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তৌহিদী জনতা’সহ বিভিন্ন নামে মব তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে উদাসীনতার অভিযোগ করেছে আসক।

কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে বিচারবহির্ভূত হত্যাও থামেনি। ২০২৫ সালে অন্তত ৩৮ জন এ ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে তথ্যের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে আসক জানিয়েছে, বছরে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত ও চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ গেছে অন্তত ৩৯ জনের।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালে ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। হামলা, মামলা, হুমকি ও নিরাপত্তা বাহিনীর চাপের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন মানবাধিকার পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আনতে পারেনি। বরং পুরোনো নিপীড়নের ধারাবাহিকতা নতুন রূপে অব্যাহত রয়েছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪