ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নতুন বছরের প্রথম সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিল মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ বেজে ওঠে ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যালার্ম। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। খবর এএফপির
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি শক্তিশালী হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পনের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অংশে অনুভূত হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাময়িকভাবে ব্যাঘাত ঘটে।
মেক্সিকোর জাতীয় ভূকম্পন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের সান মার্কোস শহরের নিকটবর্তী এলাকায়। এই অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলবর্তী এবং জনপ্রিয় পর্যটন শহর আকাপুলকোর কাছেই অবস্থিত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। এর অবস্থান ছিল গুয়েরেরোর পাহাড়ি অঞ্চলে রানচো ভিয়েহো নামের একটি এলাকার উত্তর-পশ্চিম দিকে।
ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকেই সম্ভাব্য ভবন ধসের ঝুঁকি এড়াতে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। পর্যটন এলাকাগুলোতেও একই ধরনের আতঙ্কের চিত্র দেখা যায়।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম পুনরায় প্রেস ব্রিফিং শুরু করেন। তিনি জানান, গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদোর সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। গভর্নরের বরাতে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা অতিরিক্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম