| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: ওসিকে হুমকি বৈষম্যবিরোধী নেতার

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৪:২৮:অপরাহ্ন  |  86440 বার পঠিত
থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: ওসিকে হুমকি বৈষম্যবিরোধী নেতার
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আমরা থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’ এমন হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায়। পরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে অতীতের সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আন্দোলন করে গভমেন্টকে রিফর্ম করেছি। প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে এনেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। আমাদের এইখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’

ভিডিওতে তার এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রকাশ্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ ধারণা করছে। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল থানায় গিয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেয়।

পুলিশ প্রথমে তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে পুলিশ এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, মাহদী হাসানের বক্তব্য ভবিষ্যতে এ ঘটনায় কোনো মামলা হলে তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’-এর কারণে ওই বক্তব্য বেরিয়ে গেছে। পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওসির সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানতে পেরেছেন, নয়নকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নয়ন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিল এমন ছবি ও ভিডিও দেখালে থানার ভেতরে আলোচনা হয়।

আটক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মনে হলেও বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪