সিনিয়র রিপোর্টার: শরীয়তপুরের ডামুড্যার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস ছুরিকাঘাতের পর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন। তাকে বুধবার রাতে ডামুড্যা উপজেলার তিলই এলাকায় কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খোকনকে ডামুড্যার তিলই এলাকায় ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। এর পর দুর্বৃত্তরা তার গায়ে পেট্রল জাতীয় দ্রব্য দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার জানিয়েছেন, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং এজেন্ট ব্যাংকিং-এ যুক্ত ছিলেন। তার ভাগনিজামাই প্রান্ত দাস জানিয়েছেন, খোকন বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত অবস্থায় খোকন হামলায় জড়িত তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং স্থানীয় শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
এ ঘটনায় খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় মামলা করেছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, ঢাকার শাহবাগ থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি