শেরপুর প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং এক বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদনপত্র জমা দিলেও আবেদন গ্রহণের প্রমাণপত্র দাখিল না করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে, কাগজপত্রে অসঙ্গতি, ঋণখেলাপি হওয়া এবং দলীয় মনোনয়নের কাগজ জমা না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে শেরপুর-১ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি, জাতীয় পার্টি হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস উদ্দিন এবং খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
শেরপুর-২ আসনে ঋণখেলাপিসহ নানা অসঙ্গতির কারণে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল এবং দলীয় কাগজ না থাকা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি পরিচয়ে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে দাখিল করা চারজন প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন,শেরপুর-১ (সদর): বিএনপি: ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা; জামায়াতে ইসলামী: হাফেজ রাশেদুল ইসলাম; এনসিপি: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; বিএনপির বিদ্রোহী: শফিকুল ইসলাম মাসুদ; শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী): জামায়াতে ইসলামী: গোলাম কিবরিয়া (ভিপি),ইসলামী আন্দোলন: মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস; শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী): বিএনপি: সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল; জামায়াতে ইসলামী: মাওলানা নুরুজ্জামান বাদল;ইসলামী আন্দোলন: মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন; বিএনপির বিদ্রোহী: আমিনুল ইসলাম বাদশা।
এ বিষয়ে স্থগিত হওয়া বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরী বলেন, দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পরই তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেন। বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটির কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছে। তিনি নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনপত্র ও নির্ধারিত ফি প্রদানের কপি জমা দিয়েছেন। এরপরও মনোনয়ন বাতিল হলে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনটি আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ, ৫ জনের বাতিল এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রমাণপত্র না থাকায় একজনের মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি