| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোলে টানা শীতের দাপটে বিপাকে প্রান্তিক মানুষ

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ ইং | ১৪:০৯:২০:অপরাহ্ন  |  83301 বার পঠিত
বেনাপোলে টানা শীতের দাপটে বিপাকে প্রান্তিক মানুষ
ছবির ক্যাপশন: ফাইল ফটো

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে টানা শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরপর দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের পর তাপমাত্রা যৎসামান্য বাড়লেও শীতের দাপট কমেনি। বরং কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

গতকাল রোববার (০৪ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে টানা শীতের দাপটে সবচেয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শনিবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দু’দিনই এই তাপমাত্রা ছিল দেশের সর্বনিম্ন।

এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ও শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে। শুক্রবার ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও শনিবার ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

উপজেলায় শনিবার রাত থেকেই চারদিকে কুয়াশার জাল ছড়িয়ে পড়ে। রোববার ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল প্রকৃতি। সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঠলেও ক্ষীণ আলো গায়ে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে যায়, রোদের দেখা মেলে; কিন্তু থেকে যায় শীতের আবহ। ফলে মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। মোটা জ্যাকেট ও মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড়কাঁপানো শীতে অনেকেই ঘর থেকে বের হননি। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে।

প্রতিদিন বেনাপোল বাজারে শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ভিড় থাকলেও এখন তা কমে এসেছে। সকাল ও বিকেলে শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে, আর সন্ধ্যার পর শুরু হচ্ছে অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাস্তায় ভ্যান ও অটোরিকশা কম থাকায় অফিস থেকে ঘরে ফেরা অনেক মানুষকে ধীর পায়ে হেঁটে ফিরতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ে।

উপজেলার বাগআঁচড়া এলাকার ইজিবাইক চালক তবিবুর রহমান জানান, শীতে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে শীত ও বাতাসে শরীর অবশ হয়ে আসে। যাত্রীও পাওয়া যায় না। কিন্তু রোজগার না হলে খাবার জুটবে না, তাই গ্রাম থেকে অটো নিয়ে বাজারে আসতে হচ্ছে।

শার্শা এলাকার শ্রমিক ইজ্জত আলী বলেন, গত চার দিন তিনি কোনো কাজ পাননি। শনিবার আধবেলা কাজ করে যে সামান্য টাকা পেয়েছেন, তা দিয়ে কোনোমতে বাজার করে খাবার জুটেছে। কিন্তু আজ কী হবে, তা তিনি জানেন না।

এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে শুধু গরম কাপড়ে শীত মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ সবখানে আগুনের ওম নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছিন্নমূল মানুষগুলোকে বাজার, রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল, স্কুল, কলেজ ও অফিসের বারান্দায় রাত কাটানোর জন্য জবুথবু হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪