বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা ৩ পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে।সোমবার (৫ জানুয়ারি) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটে ভ্রমণের সময় পাঁচ পর্যটক, এক মাঝি ও রিসোর্ট মালিকসহ মোট সাতজনকে মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল জিম্মি করে। পরে ডাকাতরা তিন পর্যটক ও মাঝিকে ছেড়ে দিলেও দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডকে অবহিত করে।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসানকে (১৯) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্টসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, রোববার (৪ জানুয়ারি) সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও লেনদেন অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের সময় ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।
এরপর রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজসংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রোন সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে জিম্মি থাকা দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকের লক্ষ্যে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটক ডাকাত সহযোগীদের থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি