রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। মামলাটি গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকা সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন-২০১৮ এবং ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও স্থানান্তর, স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। নিজ নামে ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের মতে, একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে জিয়াউল আহসান তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম এখন চলমান রয়েছে এবং আদালত গ্রেফতার আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম