বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুরে সাংবাদিক ও বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে নৃশংসভাবে হত্যার একদিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত হত্যার মোটিভ উদ্ঘাটন হয়নি। নেই কোনো আটক। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পরিবার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কে, কেন এবং কোন স্বার্থে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল?
পুলিশ জানায়, তদন্ত চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত হত্যার মোটিভ নির্ধারণ করা যায়নি। নিহতের পরিবারও ঘটনার কারণ নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, তাঁর ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। কেন তাঁকে হত্যা করা হলো, তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো কোনো স্বার্থগত কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু কার স্বার্থ, কী স্বার্থ—আমি জানি না। আমি শুধু আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে প্রকাশ্যেই রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন তাঁকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় একে একে সাতটি গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পড়ে ছিল। গুলিতে মৃত্যু হলেও খুনিরা গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রানা বৈরাগী।
রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাড়ি কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামে। কপালিয়া বাজারে তাঁর একটি বরফ তৈরির কারখানা ছিল এবং কেশবপুরের কাটাখালী বাজারে একটি মাছের আড়তও ছিল। পাশাপাশি তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগীর বয়স ছিল ৪০ বছর। তাঁর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চার বছর আগে অবসরে যান। রানা প্রতাপ দুই ভাইবোনের মধ্যে বড়। তাঁর একটি ১০ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, “হত্যার কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। তদন্ত চলছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তবে থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
সহকারী পুলিশ সুপার (মনিরামপুর সার্কেল) ইমদাদুল হক বলেন, “হত্যার পেছনের কারণ জানতে আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আশা করছি, দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—প্রকাশ্য বাজারে একজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিককে এতটা নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, অথচ এখনো কোনো ক্লু নেই কেন? তদন্ত কি সত্যিই অগ্রসর হচ্ছে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডও অন্ধকারে চাপা পড়ে যাবে?
রিপোর্টার্স২৪/এসএন