সিনিয়র রিপোর্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সমন্বিত ও প্রগতিশীল নীতি তৈরি করার জন্য পৃথক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় আয়োজিত সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিকল্পনা ২০২৬–২০৫০ উপস্থাপনকালে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশ দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প খাতের উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন ইনস্টিটিউটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, এটি স্বাধীনভাবে বিশ্বের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি-নির্ধারণে সরকারের সহায়তা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে খাতের অনেক কাজ ভুল লোকেশন ও ভুল কাঠামোয় হয়েছে, তাই একটি শক্তিশালী গবেষণাকেন্দ্র জরুরি।
মহাপরিকল্পনায় তিন ধাপে (২০২৬–২০৩০, ২০৩০–২০৪০, ২০৪০–২০৫০) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কৌশলগত উন্নয়ন, ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্টস, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, রিফাইনারি সম্প্রসারণ, কৌশলগত জ্বালানি মজুদ, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো, জিওথার্মাল শক্তি, সমুদ্রভিত্তিক শক্তি উন্নয়নসহ জলবায়ু সাশ্রয়ী প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদা ১৭ গিগাওয়াট থেকে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে, যেখানে পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিঃসরণ প্রতি ইউনিটে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বাতিল ও প্রণয়ন করা হয়েছে কুইক রেন্টাল আইন, মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫, রিনিউয়েবল এনার্জি পলিসি ২০২৫, রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম ২০২৫ এবং নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫।
পরবর্তী ২০২৬–২০৫০ মেয়াদে জ্বালানি খাতে ৭০–৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিদ্যুৎ খাতে ১০৭.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।