রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পকারখানার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত শহরের তালিকায় থাকা রাজধানী ঢাকার বাতাস আজ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে বায়ুমানে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও বর্তমানে ঢাকার বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে আসে।
আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, আজ ৪২০ একিউআই স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এ অবস্থায় সেখানকার বাতাস নাগরিকদের জন্য চরমভাবে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ২৮০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়।
তালিকায় ২৪৫ একিউআই স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এই মাত্রার বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়, যা শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুমানকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পর্যায়ে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যদের বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরের বায়ু ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৪০০ ছাড়ালে সেটিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে গণ্য করা হয়। সাধারণত বায়ুমানের এই সূচক নির্ধারণ করা হয় পাঁচ ধরনের দূষণ উপাদানের ওপর ভিত্তি করে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) এবং ওজোন (ও₃)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। দূষিত বাতাস স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুস ক্যানসার ও শ্বাসনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম