স্টাফ রিপোর্টার: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়া পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য আরও এক কোটি টাকা দেবে সরকার। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, হাদির পরিবারের বিষয়ে দুইটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে হাদির পরিবারকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে ফ্ল্যাট বা বাড়ির জন্য। এই টাকার পুরোটা হয়তো লাগবে না। আর এক কোটি টাকা আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে। সেটা তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য।
এর আগে হাদির বড় ভাইকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন আবার তার পরিবারকে ফ্ল্যাটের জন্য এক কোটি এবং জীবনযাপনের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটা আমাকে জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই।’
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কি এক কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
সম্প্রতি বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেছেন পদ্মা সেতুর কারণে চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে আপনি কি মনে করেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তার কোন উত্তর দেননি অর্থ উপদেষ্টা।
এদিকে অর্থবিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত রাজধানীর লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ আবাসিক ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তান ফ্ল্যাটটি ব্যবহার করবেন।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ শরিফ ওসমান বিন হাদির স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে আততায়ীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব