রিপোটার্স ২৪ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও ইতিবাচক করতে হলে দুই দেশকেই সমানভাবে উদ্যোগী হতে হবে।
বুধবার বিবিসিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে উভয় পক্ষেরই আন্তরিক সিদ্ধান্ত ও ধারাবাহিক ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রয়োজন। সম্পর্ক যদি একের পর এক সিদ্ধান্তে নিম্নমুখী হয়, তাহলে তা অব্যাহত থাকার ঝুঁকি থেকেই যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনসহ কয়েকটি মিশনে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবার প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত যদি নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি তাদের অধিকার। বিষয়টি দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশ সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে না।
ভারতের এই পদক্ষেপকে কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আরও সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করেছিলেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন ছিল।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, সেখানে অবস্থানকালে তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি করে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আগের সরকারের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে অবনতি ঘটানো হয়েছিল। বর্তমানে কিছু অমীমাংসিত বিষয় থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যা একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উভয় দেশের জনগণের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে হলে দুই পক্ষকেই বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।
রিপোটার্স ২৪/এসসি