রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাবের সমালোচনা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করায় ভারতীয় মুসলিম অভিনেতা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কামাল আর খান ওরফে কেআরকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিষয়টি ক্রিকেট ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
মুম্বাই পুলিশ গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে কেআরকেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একটি বড় অংশের দাবি, তাকে মূলত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব সমালোচনা করায় টার্গেট করা হয়েছে।
নেটিজেনরা বলছেন, কেআরকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রায় এক সপ্তাহ আগের। কেউ এ নিয়ে কোনও অভিযোগ করেনি। কিন্তু ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে মন্তব্য করার পরই প্রশাসনের নজরে আসে তিনি এবং এরপরই তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের আগে ২২ জানুয়ারি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কেআরকে লিখেন, “অবশেষে ক্রিকেটের জগৎও ধ্বংসের প্রান্তে এসে ঠেকেছে। বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানও বহু বছর ধরে ভারতে খেলছে না।”
এই পোস্টটি করেই তিনি ভারতীয় প্রশাসনের নজরে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করছেন, টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। আর এই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরায় কেআরকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সরকার টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
কেআরকের গ্রেপ্তার ও তার টুইট ঘিরে তৈরি বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ভারতে ক্রিকেট ও রাজনীতির সম্পর্ক কতটা গভীর? এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে কথা বলা সম্ভব?
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে জন্ম কেআরকের। ২০০০-এর দশকে অভিনয় জগতে পা রাখেন। প্রথমে চিত্রনাট্য লেখক হিসেবে কাজ করেন, পরে অভিনয়ে জড়ান। নায়ক হিসেবে প্রথম ছবি ‘দেশদ্রোহী’। তিনি রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’-এও অংশ নেন। বর্তমানে নিজের ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন এবং ফিল্ম ক্রিটিক হিসেবে কাজ করছেন। প্রায়ই বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা