সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশের জন্য মার্কিন শুল্কে ছাড় পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক আলোচনার ফল হিসেবে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার ইস্যুতে অগ্রগতি আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন লুৎফে সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য স্কট বেসেন্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। এটি ক্যাবিনেট পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অন্যতম উচ্চস্তরের ইন-পার্সন বৈঠক, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
লুৎফে সিদ্দিকী জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে, তা বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে ব্যাপকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কর প্রশাসন সংস্কারের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
তিনি বলেন, ব্যবসা ও বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশকে একটি গঠনমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এই অগ্রগতি আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ নিশ্চিত করা। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ট্রেজারি সেক্রেটারির ডেপুটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত পেয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর কার্যকর প্রায় ২০ শতাংশ ট্যারিফের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে অতিরিক্ত সুবিধা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক কূটনীতি কার্যকরভাবে এগোচ্ছে এবং নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার ইস্যুতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ জোরালো।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি