| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ড্রোন ও হিট সেন্সরে ধরা পড়ল অবৈধরা

মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন আটক

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ ইং | ০৯:৫৭:০৮:পূর্বাহ্ন  |  ৮৪৬৩৯৭ বার পঠিত
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন আটক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এক সমন্বিত অভিযানে রাজধানী কুয়ালালামপুরে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২১৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাণিজ্যিক এলাকা ও আশপাশের আবাসিক ভবনগুলোকে কেন্দ্র করে চালানো হয় ‘অপস সাপু’ নামের এই সমন্বিত অভিযান।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের আধিক্য এবং অবৈধ অবস্থানের অভিযোগের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরের পাশাপাশি নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের মোট ২৭৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর ১০ জন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। পুরো অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ১ হাজার ৮৭ জন ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিক ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনসহ ইমিগ্রেশন আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আটক এড়াতে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ ভবনের ছাদে উঠে যান, কেউ আবার সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে তাপ শনাক্তকারী সেন্সরযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করে তাদের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং শেষ পর্যন্ত সবাইকে আটক করা হয়। এতে অভিযানের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানায়, দেশটির ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

একই সঙ্গে সাধারণ জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ অভিবাসী (প্যাটিআই) সংক্রান্ত তথ্য থাকলে ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত সরকারি মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের জন্য আগামী এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকা ‘মাইগ্রান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪