| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গণভোট ঘিরে বিভ্রান্তি, মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন:সরকার

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ ইং | ১০:২৪:১৭:পূর্বাহ্ন  |  ৮৬৩৪৯১ বার পঠিত
গণভোট ঘিরে বিভ্রান্তি, মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন:সরকার

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ফল এলে ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

বিবৃতিতে জানানো হয়, এই দাবির পক্ষে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি পুরোনো ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফটোকার্ডটির শিরোনাম ছিল‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন আলী রীয়াজ’। ওই শিরোনামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি সরকারের।

সরকারি বিবৃতিতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন বা ছয় মাস গণপরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

বরং অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত সংসদ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর মধ্যে সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সংসদ সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্যের মূল অর্থ ছিল। সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের, অন্তর্বর্তী সরকারের নয়। ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত হবে এমন ধারণাকে তিনি সরাসরি ভুল বলে উল্লেখ করেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ওই আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে পরবর্তী জাতীয় সংসদের সদস্যরা দ্বৈত ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের পক্ষে ভোট বেশি হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। পরিষদটি প্রথম বৈঠকের দিন থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। নির্ধারিত সময় শেষে পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপ্ত হবে।

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের কাজও করবেন। কিন্তু কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং সংসদ তার স্বাভাবিক আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ফিরে যাবে।

সবশেষে সরকার জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়ে জানায়, প্রচলিত কোনো আইন, আদেশ বা প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪