| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই ফেনীতে বাঁধ নির্মাণ হবে: জামায়াত আমির

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ ইং | ১২:৩৫:২৮:অপরাহ্ন  |  ৭৩৯৯৭৭ বার পঠিত
ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই ফেনীতে বাঁধ নির্মাণ হবে: জামায়াত আমির
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ফেনী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফেনীতে যে বাঁধ নিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনো নির্মাণ হয়নি। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তবে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে এক সময় বাঁধ ভেঙে পুরো ফেনী জেলা কার্যত সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, মানুষ কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করেছে। আমিও কোমর পানি ভেঙে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সেদিন ফেনীবাসীর দুঃখ-দুর্দশা দেখে শুধু চোখের পানি ফেলেছি। অনুকূল পরিস্থিতি না থাকায় তখন ভাঙা বাঁধের স্থানে যেতে পারিনি, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে গিয়েছিলাম। এটি শুধু একটি বাঁধ নয়, এটি আমাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।

ফেনী নদী প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ করেন। 

জামায়াত আমির বলেন, আজও আবরার ফাহাদের কথা আমার গভীরভাবে মনে পড়ে। এই ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলার কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আবরার ফাহাদ দেশের ন্যায্য প্রাপ্যতার কথা বলেছিল। যারা আধিপত্যবাদের দোসর, তারা তাকে সহ্য করতে পারেনি। আমি আবরার ফাহাদের রুহ ফেনীবাসীর কাছে রেখে গেলাম, আপনাদের কলিজায় তার জন্য একটু জায়গা রাখবেন।

জনসভায় ফেনীর উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে ৬৪টি জেলার কোনো জেলাই জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত থাকবে না। ফেনীতেও একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ফেনীর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপান্তর করা হবে।

সমাবেশে ফেনী-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং ফেনী-২ আসনের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের হাতে ঈগল প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আমরা যাদের প্রতীক উপহার দিয়েছি, তারা কোনো একক দলের নয়-তারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক। এখানে ১১টি দল একাকার। যে প্রতীক যার ভাগ্যে এসেছে, সেটিই এখন ১১ দলের প্রতীক।

নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম ভোটটি দেবেন ‘হ্যাঁ’-তে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী। দ্বিতীয় ভোটটি হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালকের সন্তানও মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে এই সংস্কৃতি আমরা বদলে দিতে চাই।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারী অধিকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সমান। অপপ্রচার চালানো হয় যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের ঘরের বাইরে বের হতে দেবে না এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা মায়েদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা দুটিই নিশ্চিত করব। কওমি মাদ্রাসা নিয়েও অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা।

নির্বাচনী সহিংসতা ও উত্তেজনা প্রসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় মাথা গরম করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন? মাথা ঠান্ডা রাখুন। জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। মা-বোনদের গায়ে হাত তুলবেন না। একজন মায়ের দীর্ঘশ্বাস আপনাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জামায়াত আমির ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফেরার নির্দেশ দেন।

রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪