এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে আলোচিত ঘটনায় গ্রেফতার তনয় শাস্ত্রীসহ তিন অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বনগাঁ আদালত। শুক্রবার আদালতে পেশ করা হলে বিচারক মোহম্মদ তারিক ফেরদৌস এ নির্দেশ দেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি আবারও তাদের আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ি থেকে তনয় শাস্ত্রীসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার দীনেশ কুমার জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। যথারীতি, অভিযুক্তরা দুপুরে বনগাঁ আদালতে উপস্থিত হন এবং বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিচারকের এজলাসে পেশ করা হয়।
শুনানির সময় বনগাঁ থানার পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে রাখার আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেন। আদালতের নির্দেশ, আগামী শুনানির দিন পর্যন্ত অভিযুক্তরা সংশোধনাগারে থাকবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। মিমি চক্রবর্তী বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ এলাকায় একটি মঞ্চানুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন তাকে ‘অভদ্রভাবে’ মঞ্চ থেকে নামতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ই-মেলের মাধ্যমে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিমির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত তনয়ের বাড়িতে গেলে পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়। এই সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মিমির দায়ের করা মূল অভিযোগের তদন্তও চলছে।
অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রী ইতিমধ্যে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে মিমি দেরিতে পৌঁছেছিলেন। নির্ধারিত সময় মেনে অনুষ্ঠান শেষ করতে গিয়ে আমরা মঞ্চ খালি করতে বলেছিলাম। কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং মিমির অভিযোগের তদন্ত চলমান। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল শীর্ষ আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রাখছে।
এ ঘটনায় টালিউড এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিনেত্রীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি