| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অভ্যন্তরীণ নথিতে ইঙ্গিত:

সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনামের সামরিক বাহিনী !

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ২৩:৩৮:০২:অপরাহ্ন  |  ৬২৬৬০৮ বার পঠিত
সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনামের সামরিক বাহিনী !
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সর্বোচ্চ কূটনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত করার এক বছর না পেরোতেই ভিয়েতনামের একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক নথিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নথিটি অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য একটি মার্কিন ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘বৈরী’ বা ‘যুদ্ধংদেহী শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় মানবাধিকার সংস্থা দ্য ৮৮ প্রজেক্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, নথিটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হ্যানয়ের দ্বিমুখী অবস্থানই প্রকাশ করে না, বরং কমিউনিস্ট নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির মদদে তথাকথিত ‘কালার রেভল্যুশন’ সংগঠিত হওয়ার গভীর আশঙ্কাও তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে ইউক্রেনের ২০০৪ সালের অরেঞ্জ রেভল্যুশন এবং ফিলিপাইনের ১৯৮৬ সালের ইয়েলো রেভল্যুশনের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে—ভিয়েতনামের নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে, একই ধরনের গণঅভ্যুত্থান দেশটিতেও ঘটানো হতে পারে।

ভিয়েতনামে মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন দ্য ৮৮ প্রজেক্ট তাদের বিশ্লেষণে আরও কিছু অভ্যন্তরীণ নথির উদ্ধৃতি দিয়েছে, যেখানে ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা যায়।

সংস্থাটির সহপরিচালক ও প্রতিবেদনের লেখক বেন সুয়ানটন বলেন, “এটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাজুড়েই একটি সম্মিলিত ধারণা। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা অতিরঞ্জিত সন্দেহপ্রবণ গোষ্ঠীর চিন্তা নয়।”

দ্বিতীয় মার্কিন আগ্রাসন পরিকল্পনা

ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তুত করা মূল নথিটির শিরোনাম ‘দ্য সেকেন্ড ইউএস ইনভেজন প্ল্যান’ বা ‘দ্বিতীয় মার্কিন আগ্রাসন পরিকল্পনা’। ২০২৪ সালের আগস্টে সম্পন্ন করা এই নথিতে বলা হয়, চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি জোরদারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রচলিত নয় এমন যুদ্ধকৌশল, সামরিক হস্তক্ষেপ এমনকি বড় পরিসরের আগ্রাসন চালাতে প্রস্তুত—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ের বাইরে থাকা দেশগুলোর বিরুদ্ধে।

নথিতে উল্লেখ করা হয়, “বর্তমানে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ঝুঁকি কম।” তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী চরিত্র বিবেচনায় আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো অজুহাত তৈরি করে আমাদের দেশে আগ্রাসন চালাতে না পারে।”

মার্কিন প্রশাসনগুলোর ধারাবাহিক কৌশল

ভিয়েতনামের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বারাক ওবামা প্রশাসন থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং জো বাইডেনের শাসনামল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করেছে, যার উদ্দেশ্য ছিল চীনের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন।

২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ভিয়েতনামের সঙ্গে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভিয়েতনামের সম্পর্কের মতো সর্বোচ্চ কূটনৈতিক স্তরে উন্নীত হয়। চুক্তিতে দুই দেশকে ‘পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে ২০২৪ সালের সামরিক নথিতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ভিয়েতনামকে ‘অংশীদার ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ’ হিসেবে দেখলেও, অন্যদিকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জাতিসত্তা ও ধর্মের মতো মূল্যবোধ চাপিয়ে দিয়ে দেশটির সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধীরে ধীরে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

বেন সুয়ানটন তার বিশ্লেষণে লেখেন, “এই নথি ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রনীতির ভেতরের চিন্তাধারার অন্যতম স্পষ্ট প্রতিফলন। এতে দেখা যায়, হ্যানয় যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত অংশীদার নয়, বরং অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে এবং চীনবিরোধী কোনো জোটে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।”

ভেতরের টানাপোড়েন ও অতীতের স্মৃতি

ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাঠানো ইমেইলের কোনো জবাব দেয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সরাসরি নথিটি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছে, নতুন অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক আইএসইএএস–ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের গবেষক নুয়েন খাক জিয়াং বলেন, এসব নথি ভিয়েতনামের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট করে। কমিউনিস্ট পার্টির রক্ষণশীল ও সামরিকঘনিষ্ঠ অংশ দীর্ঘদিন ধরেই বাইরের হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক জাকারি আবুজা বলেন, ১৯৭৫ সালে শেষ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্মৃতি ভিয়েতনামের সামরিক বাহিনীর মনে এখনো গভীরভাবে প্রোথিত। তাঁর মতে, পশ্চিমা কূটনীতিকরা যেখানে চীনের আগ্রাসনকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখেন, সেখানে ভিয়েতনামের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় ভয় হলো ‘কালার রেভল্যুশন’।

ভারসাম্যের রাজনীতি

চীন ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অংশীদার, আর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ফলে দুই পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে হ্যানয়কে কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ একদিকে মানবাধিকার ইস্যুতে চাপ কমালেও, অন্যদিকে অপছন্দের সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ভূমিকা ভিয়েতনামের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।

 রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪