ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের জেরে টেক্সাসে এক বাবা তার মেয়ে লুসি হ্যারিসনকে গুলি করে হত্যা করেছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে এ ঘটনা জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি, ডালাসের কাছে প্রসপার এলাকায় বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বাড়িতে লুসি হ্যারিসন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আদালতের শুনানিতে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে লুসির ও তার বাবার মধ্যে তীব্র তর্ক হয়।
লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার আদালতে জানান, লুসি প্রায়ই বাবার বন্দুক রাখার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন করতেন। তর্কের এক পর্যায়ে লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেন, আমি যদি ওই পরিস্থিতির মেয়ে হতাম এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হতাম, তাহলে আপনার কেমন লাগত? জবাবে ক্রিস বলেন, তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই মেয়ে থাকায় তেমন কিছু মনে হতো না। এতে লুসি বিচলিত হয়ে উপরে চলে যান।
ঘটনার সময় লুসি রান্নাঘরে ছিলেন। বাবার সঙ্গে শোবার ঘরে যাওয়ার মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে ঘরে ঢুকে দেখা যায় লুসি বাথরুমের কাছে মেঝেতে পড়ে আছেন। ক্রিস চিৎকার করছিলেন এবং অসংলগ্ন কথা বলছিলেন।
ক্রিস হ্যারিসনের বরাত অনুযায়ী, তারা একটি বন্দুক সংক্রান্ত সংবাদ দেখছিলেন। তিনি মেয়েকে বন্দুকটি দেখাতে চাইলে হঠাৎ একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তিনি পরে দাবি করেছেন, ট্রিগারে তার আঙুল ছিল কি না তা মনে করতে পারেননি।
শুনানিতে আরও বলা হয়েছে, অতীতে অ্যালকোহল আসক্তির কারণে পুনর্বাসন হয়েছে ক্রিসের। ঘটনার দিনও তিনি প্রায় ৫০০ মিলিলিটার মদ্যপান করেছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হ্যারিসনের নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুরের আগে তিনি দুটি কার্টন শার্ডনে ওয়াইন কিনেছিলেন।
ক্রিস হ্যারিসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি তিনি মেনে নিচ্ছেন এবং প্রতিদিন এই ক্ষতির ভার অনুভব করছেন।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘ম্যানস্লটার’ (অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড) হিসেবে তদন্ত করছে। তবে কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য এখনো অস্বীকৃতি দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম