| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এপস্টেইন ফাইল থেকে আরও নাম প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬ ইং | ১২:৪৫:৪৪:অপরাহ্ন  |  ৫৬৩২৯৪ বার পঠিত
এপস্টেইন ফাইল থেকে আরও নাম প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
ছবির ক্যাপশন: সংক্রান্ত নথি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রতিনিধি রো খান্না (ডানে) ও প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি। ছবি: হিদার ডিহল/গেটি ইমেজেস

স্টাফ রিপোর্টার: আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে সোমবার জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি থেকে আরও কয়েকটি নামের গোপনীয়তা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এর আগে কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য অপরিবর্তিত (unredacted) নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগ তুলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম অযৌক্তিকভাবে গোপন রাখা হয়েছে।

কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০১৯ সালের একটি এফবিআই নথিতে উল্লেখ থাকা কয়েকজনের পরিচয় আগে মুছে ফেলা হয়েছিল।

নতুন করে প্রকাশিত নামের মধ্যে রয়েছেন বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী লেস ওয়েক্সনার; এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ; এবং সাবেক ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেল। নথিতে তাদের এপস্টেইনের ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েক্সনার ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মূল কোম্পানি এল ব্র্যান্ডসের সাবেক প্রধান নির্বাহী। তিনি আগে এপস্টেইনকে অর্থ ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

গত ডিসেম্বরে তার নাম প্রকাশিত হলে ওয়েক্সনারের এক আইনজীবী বিবৃতিতে বলেন, এপস্টেইন তদন্তের দায়িত্বে থাকা সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি সে সময়ই বলেছিলেন, মি. ওয়েক্সনার কোনোভাবেই সহ-ষড়যন্ত্রকারী বা তদন্তের লক্ষ্যবস্তু নন। তিনি আরও জানান, ওয়েক্সনার তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন।

লেসলি গ্রফের আইনজীবী মাইকেল বাখনার সিএনএনকে বলেন, গ্রফ এই নথি কখনও দেখেননি এবং এ বিষয়ে অবগতও ছিলেন না। তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় প্রসিকিউটরদের সঙ্গে কথা বলার পর গ্রফকে জানানো হয়েছিল যে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না।

অন্যদিকে জ্যঁ-লুক ব্রুনেলকে অপ্রাপ্তবয়স্ককে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তাকে কারাগারের কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়; মেডিকেল পরীক্ষক এটিকে আত্মহত্যা বলে রায় দেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ডিওজে কিছুই গোপন করছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়েক্সনারের নাম ইতোমধ্যে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে হাজারবার এসেছে।

‘টর্চার ভিডিও’ ইমেইল ও নতুন বিতর্ক

চাপের মুখে বিচার বিভাগ আরও একটি নাম প্রকাশ করে। ২০০৯ সালের একটি ইমেইলে এপস্টেইন এক প্রাপককে লেখেন: তুমি কোথায়? তুমি কি ঠিক আছ? আমি সেই নির্যাতনের ভিডিওটি পছন্দ করেছি।

থমাস ম্যাসি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, ইমেইলের প্রাপক ছিলেন একজন সুলতান। পরে ব্ল্যাঞ্চ জানান, আলাদা একটি নথিতে নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং সেটি আমিরাতি ব্যবসায়ী সুলতান বিন সুলাইয়েমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিন সুলাইয়েম বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।ইমেইলে উল্লিখিত ‘টর্চার ভিডিও’ কী বোঝায়, তা স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া, আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ভারীভাবে সম্পাদিত (redacted) নথিতে অন্তত ছয়জন পুরুষের নাম গোপন রাখা হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি রো খান্না কংগ্রেসে বক্তব্য দিয়ে ওই ছয়জনের নাম প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, তাদের চাপে বিচার বিভাগ তা প্রকাশে বাধ্য হয়েছে।

তবে বিচার বিভাগ কেন কিছু নাম গোপন রেখেছিল বা কেন এপস্টেইন ছাড়া অন্য কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি,এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না।

প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, অনেক সম্পূর্ণ মুছে ফেলা ইমেইল আসলে নারী ভুক্তভোগীদের, যাদের পরিচয় গোপন রাখা আইনগত বাধ্যবাধকতা। কিছু এফবিআই নথিও আগেই সম্পাদিত ছিল।

গত বছর কংগ্রেসে শুনানিতে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, এপস্টেইন অন্যদের কাছে মেয়েদের পাচার করেছিলেন,এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তাদের কাছে নেই।

এদিকে গত সপ্তাহে বিচার বিভাগ একটি খসড়া অভিযোগপত্র প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয় ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এপস্টেইন ও তিনজন অজ্ঞাত আসামি অর্থের বিনিময়ে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ যুক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তবে ওই তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

২০০৭ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা এপস্টেইনের সঙ্গে একটি অ-অভিযোগ (non-prosecution) চুক্তি করেন। এর ফলে তিনি ফেডারেল অভিযোগ এড়িয়ে যান এবং পতিতাবৃত্তি–সংক্রান্ত অভিযোগে ১৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেন।

২০২০ সালের এক পর্যালোচনায় বিচার বিভাগ জানায়, তৎকালীন ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অ্যালেক্স আকোস্তা ওই চুক্তিতে ‘দুর্বল বিচারবোধ’ দেখিয়েছিলেন, তবে পেশাগত অসদাচরণ করেননি।  সূত্র: সি এন এন

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪