নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল জেলা হাসপাতালে কর্মরত ৪৫ জন আউটসোর্সিং কর্মী গত ৭ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে এসব কর্মীর। দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নড়াইল টাউন মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে আউটসোর্সিং কর্মীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
নড়াইল জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ৪৫ জন আউটসোর্সিং কর্মী রয়েছেন। প্রতি মাসে ১৭ হাজার ৬৩০ টাকা, ১৭ হাজার ১৩০ টাকা, ১৬ হাজার ৪৩০ টাকা ও ১৬ হাজার ১৩০ টাকা হারে তাদের বেতন পাওয়ার কথা। এই অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে যাওয়ার কথা। কিন্তু শ্রমিকরা বলছেন, বেতন তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় না। কর্মীদের কাছ থেকে চেকবইয়ের পাতায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার, ৮ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা করে জনপ্রতি ভাগ করে দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বাকচি নামে একজন আউটসোর্সিং কর্মী জানান, তিনি নড়াইল জেলা হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স অঞ্জনার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দিয়ে এ চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। এ বিষয়ে নার্স অঞ্জনার কাছে জানতে চাইলে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদারকে দিয়েছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী বলেন, আমরা যখন এখানে চাকরি নিয়েছি, তখন আমাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। এরপরও আমরা নিয়মিত বেতন পাই না। চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তারা প্রতিবাদ করতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নড়াইল টাউন মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের মালিক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি কোনো কর্মীর কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেইনি। আমি টাকা নিয়েছি—এটা কেউ বলতে পারবেন না। নড়াইল জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৭৬ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এজন্য ৪৫ জনের বেতনের অর্থ ৭৬ জনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জটিলতার কারণে শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন