শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন না করার অভিযোগ তুলে দুই গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের বাবা বিএনপির সমর্থক হওয়ায় এ নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।
ভুক্তভোগী জোসনা খাতুন (২৫) ও সুলতানা আক্তার (২০) উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গাইনবাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে। জোসনার শ্বশুরবাড়ি একই ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামে এবং সুলতানার শ্বশুরবাড়ি পাতাখালী গ্রামে।
জোসনা খাতুনের ভাষ্য, তাঁর স্বামী এনামুল হোসেনসহ পুরো পরিবার জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত। তাঁর বাবা ও বোনেরা বিএনপির সমর্থক। নির্বাচনের আগে তিনি বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে তাঁর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইটভাটায় কাজে যাওয়ার আগে এনামুল তাঁকে মারধর করেন। এ সময় বিএনপি কর্মী বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে এনামুল তাঁকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দিয়ে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলেন।
আব্দুর রশিদের দাবি, আহত মেয়েকে আনতে গেলে জোসনার মামাশ্বশুর, জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম মোস্তফা তাঁকে গালাগাল করে ‘বিএনপি করার সাধ মেটানো’র হুমকি দেন। তাঁর অভিযোগ, জোসনার স্বামী এনামুলের সঙ্গে নির্যাতনে অংশ নেন গোলাম মোস্তফাও।
এনামুল হোসেনের নম্বরে কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মামা গোলাম মোস্তফা বলেন, পারিবারিক বিষয়কে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, বিয়ের পর স্ত্রীকে স্বামীর পরিচয়ে চলতে ও পরিচয় দিতে হয়। তাই স্বামীর পরিবারের আদর্শ মেনে চলতে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
সুলতানার অভিযোগ, তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাবার বাড়িতে গেলে বিএনপিকে ভোট দেবেন—এ অভিযোগ তুলে স্বামী ইমাম হোসেন তাঁকে বেদম মারধর করেন। এমনকি বাবার বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। তা না মানায় তাঁকে পিটিয়ে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
ইমাম হোসেনের দাবি, স্বামী হিসেবে কথা না শোনায় স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলেন। রাগের মাথায় দু-চারটি চড়-থাপ্পড় মারা হয়ে থাকতে পারে, তবে তা খেয়াল নেই। তাঁর শ্বশুর ‘বিএনপি-বিএনপি’ করে তাদের সংসার করতে দেননি বলেও দাবি করেন। তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, মেয়েদুটির বাবা বিএনপি করেন। তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত পরিবারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন