| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ, আড়াই মাসে ৩৬ মৃত্যু

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬ ইং | ১৭:৫০:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৫৭৬৬৮৫ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ, আড়াই মাসে ৩৬ মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দিনেদিনে গরম ও রাতে শীতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি–কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শিশু ওয়ার্ডে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাপ। এতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৫ জন শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। অথচ ওয়ার্ডটির ধারণক্ষমতা এর তুলনায় তিন থেকে চার গুণ কম। ফলে অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি শয্যায় একাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। কোথাও মায়েরা কোলে করে সন্তান নিয়ে বসে আছেন, আবার কোথাও মেঝেতে বিছানা পেতে রাখা হয়েছে অসুস্থ শিশুদের। অভিভাবকদের ভিড়ে ওয়ার্ডে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চাপে পড়ছেন দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের ওয়ার্ড ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স তাজনেহার আক্তার বলেন, শীত ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যা ওয়ার্ডের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস ১৯ দিনে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এবং অপরিপক্ব নবজাতকের জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবু মো. রাজিব-উল-দোজা তূর্য বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে ভাইরাসজনিত জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে মাম্পস বা ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে না পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

শিশুমৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেওয়া নবজাতকদের ঝুঁকি বেশি থাকে। বাল্যবিবাহ, গর্ভকালীন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা এবং প্রসবকালীন জটিলতাও এর অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে শিশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

এদিকে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁরা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪