| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চরমে, কূটনীতি নাকি সামরিক সংঘাত?

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬ ইং | ১৪:১৬:৫৫:অপরাহ্ন  |  ৪৬৬২৩২ বার পঠিত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চরমে, কূটনীতি নাকি সামরিক সংঘাত?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তি না হলে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযান সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় সীমিত হামলার মতো হবে না; বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিস্তৃত অভিযান হতে পারে, যা কার্যত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগেও হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে হলে তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধসহ পরমাণু কর্মসূচিতে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করবেন, নাকি যুদ্ধের ঝুঁকি নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনও অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। সাবেক মার্কিন জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল শোধনাগারে হামলার চেষ্টা করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ২০২৫ সালের অক্টোবরে বলেন, এই পরিমাণ উপাদান তাত্ত্বিকভাবে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সক্ষম হতে পারে।

এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে শুধু পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় সীমিত হামলা থেকে শুরু করে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো দুর্বল করার বৃহত্তর অভিযান পর্যন্ত।

অ্যাক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ১৫০টির বেশি কার্গো ফ্লাইটে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬সহ প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে। কাতার ও সৌদি আরবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে।

এ মাসের শুরুতে ওমানে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দুই দফা আলোচনা হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ২৩ ফেব্রুয়ারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তা হবে “আগ্রাসনের শামিল” এবং এর জবাব দেওয়া হবে।

ট্রাম্প ২০ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা না হলে সীমিত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।

এনডিটিভি  /রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪