ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইসরাইলের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। ইসরাইল সফরে গিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট Knesset-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত সবসময় ইসরাইলের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। এ সময় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। খবর প্রকাশ করেছে The Times of Israel।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী Hamas। ওই হামলায় বহু মানুষ নিহত হন এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরপরই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনের সফরে তেল আবিব পৌঁছে দখলকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরাইলি সংসদে ভাষণ দেন মোদি। সেখানে তিনি বলেন,
৭ই অক্টোবর হামাসের সেই বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং যেসব পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমি ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।
তার এ বক্তব্যে স্পষ্টভাবে হামাসের হামলার নিন্দা জানানো হলেও গাজায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা ইসরাইলি সামরিক অভিযানের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
নিজের বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রয়োজন বিশ্বের সকল দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। কারণ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসবাদ সব জায়গার শান্তির জন্যই হুমকি।
তিনি আরও বলেন, টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত সব ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগকে সমর্থন করে।
আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকরণের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত Abraham Accords-এর প্রতিও সমর্থন জানান মোদি। তিনি মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া গাজা ইস্যুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রতিও নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। যদিও পরিকল্পনার নির্দিষ্ট দিক নিয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, তবে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের বাস্তবসম্মত উদ্যোগের পক্ষে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই সফর এবং বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। একদিকে ইসরাইলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন, অন্যদিকে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে বক্তব্য সব মিলিয়ে নয়াদিল্লি তার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তাই দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম