ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং–এর একটি ছবি প্রকাশ পাওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, হাতলবিহীন একটি চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় আছেন হকিং। তার দুই পাশে দু’জন নারী পানীয় হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। জানা গেছে, ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট থমাস দ্বীপের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক বিজ্ঞান সম্মেলনে ছবিটি তোলা হয়েছিল। ওই সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন এপস্টেইন।
হকিং পরিবারের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছবিতে থাকা দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক হকিংয়ের সেবাযত্নে নিয়োজিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ বা ইঙ্গিত ভুল ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে পরিবার।
সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে হকিংয়ের নাম বহুবার উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিষয়টিকে ‘অবাস্তব’ বলে মন্তব্য করেছেন। কারণ মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হকিং দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে প্রায় সম্পূর্ণ অচল ছিলেন। ডান গালের একটি পেশি ছাড়া তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ অকার্যকর ছিল। বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি কথা বলতেন, চলাচলের জন্য ব্যবহার করতেন বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তার জন্য প্রয়োজন হতো চিকিৎসা সরঞ্জাম।
১৯৪২ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে জন্ম নেওয়া হকিংকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলবার্ট আইনস্টাইন–এর পর আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে তার নাম উচ্চারিত হয়। তার বিখ্যাত গ্রন্থ A Brief History of Time বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
মাত্র ২১ বছর বয়সে দুরারোগ্য এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হন হকিং। ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় গবেষণা ও লেখালেখি চালিয়ে গেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত ছবিকে কেন্দ্র করে যেসব ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
সূত্র : এএফপি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম