ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা সদরে যানজটকে কেন্দ্র করে ট্রলি ও ভ্যানচালকের কথাকাটাকাটির জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আটানি বাজার ছোট মসজিদ মোড় ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটানি বাজার এলাকায় যানজট নিয়ে তারাটি ইউনিয়নের একটি ট্রলি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার একটি ভ্যানচালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয় দোকানি সোহেল বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়। তবে ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহেল ও তাঁর ভাইয়ের দুটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার দুই শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আটানি বাজার ছোট মসজিদ মোড়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রাস্তার দুপাশের অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ইট-পাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র্যাব-১৪ সাঁজোয়া যানসহ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারও ইন্ধন বা উসকানির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি