আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা হামলা ও প্রতিরোধ অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এতে পেন্টাগন এক জটিল সামরিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
প্রতিবেদনে এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন। তবে এই মুহূর্তে ‘টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল’ এবং ‘এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর’-এর মতো উন্নতমানের সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তী ধাপের অভিযানে প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে লক্ষ্য থাকবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা, ড্রোন নির্মাণ কেন্দ্র এবং নৌ-সামরিক সক্ষমতাকে ধ্বংস করা।
প্যাট্রিয়ট মিসাইল সংকট
শুধু ইরান-সংঘাত নয়, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতির কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত চাপে পড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বহুল ব্যবহৃত ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল ব্যবস্থার বড় অংশ ব্যয় করেছে। ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট মিসাইলের ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে।
যৌথ অভিযানের দাবি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) দাবি করেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
রোববার রাতে মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের সুরক্ষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলেও জানানো হয়।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও হতাহতের হিসাব
সংঘাতে মার্কিন বাহিনীরও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর ও যুদ্ধজাহাজে হামলার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এসব দাবির স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।