| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ভাইয়ের হতে পারে ৪০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৩, ২০২৬ ইং | ২০:২৫:১৭:অপরাহ্ন  |  ৩৪৮৭৫৫ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ভাইয়ের হতে পারে ৪০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড
ছবির ক্যাপশন: ভাস্কর সাভানি (৬০) ও অরুণ সাভানি (৫৮) সংগৃহীত ছবি ,এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতি, স্বাস্থ্যসেবায় প্রতারণা, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ভাই। তারা হলেন ভাস্কর সাভানি (৬০) ও অরুণ সাভানি (৫৮)।

মার্কিন আদালতের রায়ে তাদের বিরুদ্ধে বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে সংঘটিত বড় ধরনের প্রতারণা চক্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলায় বড় ভাই ভাস্কর সাভানির সর্বোচ্চ ৪২০ বছর এবং ছোট ভাই অরুণ সাভানির সর্বোচ্চ ৪১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সাভানি গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দুই ভাই কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছিলেন।

তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের H-1B ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ দিত। অধিকাংশ কর্মীই ভারত থেকে আনা হতো। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের পর তাদের বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে বাধ্য করা হতো এবং বেতনের একটি অংশ কোম্পানির কাছে ফেরত দিতে হতো। অভিবাসন-সংক্রান্ত নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে তাদের শোষণ করা হতো।

পেশায় দন্তচিকিৎসক ভাস্কর সাভানি চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতারণায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তদন্তকারীরা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইড থেকে ৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আদায় করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের ডেন্টাল ক্লিনিকগুলো মেডিকেইডের চুক্তি বাতিল হওয়ার পরও অন্যের নামে পরিচালিত বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিল জমা দিয়ে অর্থ আদায় করত।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এক দন্তচিকিৎসক বিদেশে থাকার সময় তার ন্যাশনাল প্রোভাইডার আইডেন্টিফায়ার (এনপিআই) ব্যবহার করে মেডিকেইডে ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়াই অনভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করানো হতো।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগীদের অজান্তে এমন কিছু ডেন্টাল ইমপ্লান্ট ব্যবহার করা হয়েছিল যেগুলোর গায়ে লেখা ছিল ‘মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়’। এসব প্রোটোটাইপ যন্ত্রপাতি মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুমোদিত ছিল না।

প্রসিকিউটরদের মতে, জালিয়াতির অর্থ গোপন করতে দুই ভাই বিভিন্ন করপোরেট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জটিল আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। পাশাপাশি তারা প্রায় ১৬ লাখ ডলারের ব্যক্তিগত আয় ও ১১ লাখ ডলারের কর্মী আয়ের ওপর কর ফাঁকি দিয়েছেন।

এ ছাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর ও সন্তানদের কলেজের টিউশন ফিসহ ব্যক্তিগত খরচও তারা ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে দেখিয়েছিলেন।

এই মামলায় দুই ভাইয়ের সহযোগী আলেক্সান্দ্রা রাদোমিয়াকও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সর্বোচ্চ ৪০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

আদালত আগামী জুলাই মাসে তাদের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবেন। ভাস্কর সাভানির সাজা ঘোষণা হবে ৮ জুলাই এবং অরুণ সাভানির ৯ জুলাই। এনডিটিভি

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪