স্টাফ রিপোর্টার: নতুন সরকারকে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ করে দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।মানববন্ধনটির আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চাভুক্ত সংগঠনগুলো।
মানববন্ধনে নেতারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে তারা উল্লেখ করেন: ভোলার তজুমদ্দিনে এক নারীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ, চট্টগ্রামের আকাশ দাস হত্যা, বগুড়ার সুনীল বাঁশফোড় হত্যা, কক্সবাজারের ব্যবসায়ী গণেশ পালের হত্যা, ময়মনসিংহের চাল ব্যবসায়ী সুশেন চন্দ্র, যশোরের অরুণ অধিকারী, গাইবান্ধার অমিতাভ চন্দ্র এবং বগুড়ার শিক্ষক চয়ন রাজভরের হত্যাকাণ্ড। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন নেতারা।
গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র এক মাস। কেউ এটিকে ‘মধুচন্দ্রিমা’ বললেও দেশের পরিস্থিতি অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকার এখনো মধুচন্দ্রিমায় আছে নাকি বাস্তব কাজের সময় চলছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে; এজন্য অপরাধ ও নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারি অনুদান বিতরণে অনিয়ম এড়াতে কঠোর তদারকি জরুরি। পাশাপাশি তিনি সংসদে জাতীয় সংগীতের সময় কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীর আচরণকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, নির্বাচনের এক মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত অর্ধশত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হত্যা, মন্দিরে হামলা, জমি দখল, আদিবাসী সম্পত্তির লুটপাট ও উচ্ছেদ সহ একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, মানবিক ও সম-অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, নির্বাচনের মাত্র এক মাসে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে, সংহতি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব সুব্রত হাজরা ও জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক এম কে রায়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি