আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্ভুলতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, ইরান হয়তো চীনের উন্নত স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা বিডো নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিসটেম ব্যবহার করছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান।
ফ্রান্সের সাবেক বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক এলেন জুইলেট ফ্রান্সের স্বাধীন পডকাস্ট টকসিন-এ বলেন, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উল্লেখযোগ্য নির্ভুলতা দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এর পেছনে চীনের বিডো ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। যদিও অনেক হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন ইরানের সামরিক প্রযুক্তি অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের Global Positioning System (GPS)-এর ওপর নির্ভর করত। তবে GPS সিগন্যাল জ্যাম করা সম্ভব হলেও বিডো ব্যবহৃত হলে তা বাধাগ্রস্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।
চীন ২০২০ সালে বিডো -এর সর্বশেষ সংস্করণ চালু করে, যা GPS-এর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে প্রায় ৪৫টি স্যাটেলাইট রয়েছে, যেখানে GPS-এ রয়েছে প্রায় ২৪টি। এছাড়া রাশিয়ার GLONASS ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের Galileo satellite navigation system-এও প্রায় ২৪টি করে স্যাটেলাইট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন যুক্ত হলে ক্ষেপণাস্ত্রের পথ নির্ধারণ আরও নির্ভুল হয়। BeiDou ব্যবস্থায় ত্রুটির পরিমাণ এক মিটারেরও কম হতে পারে এবং এতে জ্যামিং প্রতিরোধের উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান সত্যিই বিডো প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে, তবে তা যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রাধান্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা