আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুদস দিবস উপলক্ষে ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রতিশোধমূলক এই হামলায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে তেল আবিবের আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আলো দেখা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্য ইসরাইলের একটি স্থানে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি গুদামঘরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে গুদামটি কীসের এবং এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এর আগে রাতে সাইরেনের শব্দের মধ্যেই তেল আবিবের আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর এটিকে অন্যতম বড় হামলার রাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও একই দিনে দক্ষিণ লেবানন থেকে একটি ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলার দাবি করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগঠনটি জানায়, নতুন স্থাপিত ব্লাত সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি, এটি কুদস ডে উপলক্ষে পরিচালিত ‘আল-কুদস ডে অপারেশন’-এর অংশ, যা প্রতি বছর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানাতে পালন করা হয়।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা স্বীকার করে এবং এটিকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান বলে দাবি করে। তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও কয়েকটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
হিজবুল্লাহ আরও জানায়, তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই এলাকায় ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদরদপ্তর রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও তাদের মিত্রদের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।