আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের অবরোধ সত্ত্বেও বিশেষ অনুমতিতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে ভারতের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ। এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বহনকারী ওই ট্যাংকার দুটি ভারতের পশ্চিম উপকূলের বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
শনিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা বলেন, ভোরের দিকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে জাহাজ দুটি এবং বর্তমানে সেগুলো ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালী জানিয়েছেন, অবরোধ থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় কিছু ভারতীয় জাহাজকে হরমুজপ্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজকে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালি ব্যবহারকারীদের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে এলপিজি ব্যবহারকারীদের অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যেখানে সম্ভব পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় (ভারত) জানিয়েছে, যেসব গ্রাহকের পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সংযোগ রয়েছে, তারা আর এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণ, সংগ্রহ বা রিফিল করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সংশোধিত সরবরাহ আদেশ জারি করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি