| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লাদাখের কণ্ঠরোধের ব্যর্থ চেষ্টা?

সুপ্রিম রায়ের আগেই ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহার

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৪, ২০২৬ ইং | ২২:৩৫:২০:অপরাহ্ন  |  ৩৩২০৭৬ বার পঠিত
সুপ্রিম রায়ের আগেই ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহার
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) অধীনে জারি করা আটকের নির্দেশটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই  সিদ্ধান্তটি নিছক আইনি বাধ্যবাধকতা নাকি রাজনৈতিক কৌশল, তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। 

শনিবার পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের  আওতায় জারি করা আটকাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও, এর নেপথ্যে সুপ্রিম কোর্টের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কঠোর সমালোচনা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

গত সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙমোর দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট যখন নিয়মিত শুনানি চালাচ্ছে এবং আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে, ঠিক তার আগেই সরকারের এই পিছুটান আইনি পরাজয় এড়ানোর একটি কৌশল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। মন্ত্রকের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, ওয়াংচুক ইতোমধ্যেই তার আটক মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করেছেন এবং লাদাখের "শান্তি ও স্থিতিশীলতা" বজায় রাখতেই এই মুক্তি। 

তবে সমালোচকদের মতে, লাদাখের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত সুরক্ষার মতো মৌলিক দাবিগুলোকে আড়াল করতেই সরকার ‘শান্তি বিঘ্নিত হওয়া’র অজুহাত তুলেছিল। গত সেপ্টেম্বরের সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় ওয়াংচুককে সরাসরি দায়ী করে তাকে আটক করা হলেও, গীতাঞ্জলি আঙমো আদালতের কাছে প্রমাণ করেছেন যে এই আটকাদেশ ছিল পুরনো এফআইআর এবং অস্পষ্ট অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, যার সাথে তৎকালীন পরিস্থিতির কোনো বাস্তব যোগসূত্র ছিল না। 

এটি স্পষ্ট করে যে, জাতীয় নিরাপত্তার মতো কঠোর আইনকে জনআন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার একটি প্রবণতা এখানে দৃশ্যমান। সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা লাদাখের স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করছে, কিন্তু বাস্তবে লাদাখের অর্থনীতি ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতির জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচীকে দায়ী করা এক প্রকার দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা মাত্র। পর্যটন বা ব্যবসার ক্ষতি আন্দোলনের কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক দাবির ফলেই সৃষ্টি হয়েছে। 

ওয়াংচুকের আটকাদেশ বিশ্বজুড়ে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। তাই আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সর্বোচ্চ আদালতের সম্ভাব্য প্রতিকূল রায় থেকে বাঁচতেই সরকার শেষ মুহূর্তে "গঠনমূলক সংলাপের" দোহাই দিয়ে এই পিছুটান দিল। এই মুক্তি লাদাখের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের নৈতিক জয় হিসেবেই গণ্য হচ্ছে, যদিও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪