আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ হরমুজ সট্রেইট খোলা রাখতে “যুদ্ধজাহাজ” পাঠাবে। ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সট্রেইটটি প্রায় পুরোপুরি ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।
ট্রাম্প শনিবার সকালে তাঁর সোশাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ সট্রেইট বন্ধ করার চেষ্টায় প্রভাবিত, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে সট্রেইটটি নিরাপদ ও খোলা থাকে।” তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যও এই কাজে সহযোগিতা করবে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, আমরা ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ১০০% ধ্বংস করেছি, তবে তারা সহজেই ড্রোন, মাইন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। যেকোনওভাবেই আমরা শীঘ্রই হরমুজ সট্রেইট খোলা, নিরাপদ ও স্বাধীন করব।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, দ্বীপের ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু তেল অবকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ঘোষণা করেছে, যদি তাদের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর উপর হামলা করা হয়, তারা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে। ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডস বিশেষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হুমকি দিয়েছে, অভিযোগ করে যে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উৎস সেখানে। একই সময়ে, UAE-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার ইরান থেকে দেশটিতে ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৩টি ড্রোন লক্ষ্য করা হয়েছে; ধ্বংসাবশেষ ফুজাইরাহ বন্দরে আঘাত হেনেছে।
এছাড়া, সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ২,৫০০ মার্কিন মেরিন ও একটি অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
হরমুজ সট্রেইট বর্তমানে ইরান যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা। সট্রেইট অবরোধ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় জোটের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এ লেভারেজ কমিয়ে দিতে পারে, কিন্তু ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তেলের বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি