বিশেষ প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে ডিজেল ও গ্যাসোলিন আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান চুক্তির বাইরে গিয়ে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন কেনা হবে। এতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দও নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে জ্বালানি আমদানির জন্য ১৭টি জাহাজের এলসি খোলা হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চারটি জাহাজের জ্বালানি দেশে এসেছে। ছয়টি এলসির জ্বালানি এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং বাকি সাতটি এলসির সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে আগামী এপ্রিল মাসে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ১৫টি জাহাজের এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি পার্সেল সরবরাহের সম্মতি পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি জাহাজের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশী ভারত, চীন ও জাপানের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার।
এ লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সৌদি আরবের প্রিন্স মালিকানাধীন কোম্পানি পেট্রোগাস ইন্টারন্যাশনালকে সরবরাহকারী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন কেনা হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় কূপ খননের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি