রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো। বিশেষ করে ন্যাটো স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই সংঘাতে জড়াবে না।
জার্মান সরকারও একই অবস্থান নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক -এর মুখপাত্র স্টিফেন কর্নেলিয়াস সোমবার (১৬ মার্চ) বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, “এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার মূল কাজ সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষা করা।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা না করলে মিত্র দেশগুলোর জন্য ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার আহ্বান জানান।
তবে বার্লিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে তারা কোনো সামরিক উদ্যোগে অংশ নেবে না। কর্নেলিয়াস বলেন, “যতদিন এই যুদ্ধ চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার জন্য সামরিকভাবে কোনো উদ্যোগে আমরা অংশ নেব না।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জার্মানিকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে- এমন তথ্যও তাদের কাছে নেই।
জার্মানির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। বরং শুরুতেই ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছিল, ইউরোপের সহায়তা প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুর দিকে চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী অবস্থানের প্রতি তুলনামূলক বেশি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব জার্মানির ওপর স্পষ্ট হতে শুরু করায় এখন তিনি অবস্থান বদলেছেন।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতা শুরু থেকেই এসব হামলাকে অবৈধ বলে সমালোচনা করেছেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, এবং বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন-পারস্য উপসাগর অঞ্চলের এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার জন্য এখনো সুস্পষ্ট কোনো কৌশল দেখাতে পারেনি ওয়াশিংটন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে