| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মার্কিন মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের নতুন হামলা, ‘অপ্রত্যাশিত’ বললেন ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৭, ২০২৬ ইং | ১৪:০৪:২১:অপরাহ্ন  |  ৩০১৩২৫ বার পঠিত
মার্কিন মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের নতুন হামলা, ‘অপ্রত্যাশিত’ বললেন ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান নতুন করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে, যা ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালালে এমন পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কা আগে থেকেই তাকে জানানো হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানের রাজধানী তেহরান এবং লেবাননের বৈরুতে হামলা জোরদার করেছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ইরান রাতে ইসরায়েলের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা প্রমাণ করে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাপক হামলার শিকার হলেও দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা এখনো ধরে রেখেছে তেহরান।

ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও মঙ্গলবার ভোরে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। যদিও এতে তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত;যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ বানি ইয়াস এলাকায় পড়ে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া ড্রোন হামলায় আবুধাবির শাহ গ্যাসক্ষেত্রে আগুন লাগে এবং ফুজাইরাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা (ইরান) মধ্যপ্রাচ্যের এতগুলো দেশের ওপর হামলা চালাবে,এটা প্রত্যাশিত ছিল না। কেউই এটা আশা করেনি। আমরা বিস্মিত হয়েছি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিল,ইরানের ওপর হামলা চালালে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে।

এছাড়া ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আগে থেকেই ধারণা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইলেও জার্মানি, স্পেন, ইতালি, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে রাজি হয়নি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর অনুমোদন প্রয়োজন।

এদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা কমেনি বরং আরও উন্নত হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবা বলেন, আমাদের আগ্রাসী সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও নির্ভুলতা বেড়েছে।

সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির যুগপৎ সংকট তৈরি হতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪