আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর একসময় তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে অবনতির দিকে গেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তালেবান সরকারের দাবি, ওই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা “সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সম্পর্কের অবনতি কেন?
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে আফগান তালেবানের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে দেখা হতো। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আফগানদের “দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙা” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর নেতাকর্মীরা আফগানিস্তানে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরাও আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের।
অন্যদিকে আফগান তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বরং দাবি করেছে, পাকিস্তানই তাদের শত্রু গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট’র সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে।
সংঘাতের সাম্প্রতিক কারণ
গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত জঙ্গি হামলার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এসব হামলার মধ্যে পাকিস্তানের বাজাউর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী হামলাও ছিল, যা টিটিপি দায় স্বীকার করে।
এর আগে সীমান্তে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বহু সেনা নিহত হয়। পরে তুরস্ক, কাতার = সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়, তবে তা বেশিদিন টেকেনি।
টিটিপি কারা?
২০০৭ সালে গঠিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান মূলত পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় একটি জঙ্গিগোষ্ঠী। তারা বহু বছর ধরে পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি, পুলিশ স্টেশন, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আসছে। ২০১২ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলার পেছনেও এই গোষ্ঠী জড়িত ছিল।
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান তার সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। পাল্টা হিসেবে আফগান তালেবান সীমান্ত এলাকায় হামলা ও গেরিলা আক্রমণ বাড়াতে পারে।
দুই দেশের সামরিক শক্তির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তালেবানের যোদ্ধা সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার, যা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক কম। পাকিস্তানের রয়েছে ৬ লাখের বেশি সক্রিয় সেনা, শত শত যুদ্ধবিমান এবং পারমাণবিক সক্ষমতা।
চীনের মধ্যস্থতায় কিছু সময় উত্তেজনা কমলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তেও আবার উত্তেজনা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি