| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদন

ভারতের আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৭, ২০২৬ ইং | ১৯:২৫:১৬:অপরাহ্ন  |  ২৯৯৮৯৩ বার পঠিত
ভারতের আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমিশন।

ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম রিপোর্ট ২০২৬-এর ওই সুপারিশে উল্লিখিত সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ক্ষেত্রে বাধা ও সেখানে অবস্থানকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ‘ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে’ উল্লেখ করে ভারতকে সিপিসি অর্থাৎ কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্নের তালিকায় রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভারতে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর একাধিক হামলার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন সরকারি নীতিরও সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সেই নীতিগুলি নির্দিষ্টভাবে সংখ্যালঘুদের নিশানা করে তৈরি করা হয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে প্রতিবেদনটি।

প্রতিবেদনে বৈষম্যমূলক আইন যেমন ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা সংক্রান্ত আইনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তর বিরোধী বিভিন্ন আইন ও গো-রক্ষা আইন পাস হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিপোর্টটি। এই আইনগুলির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের নিশানা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিবেদনটি।

মব সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে ভারতে সাম্প্রতিক অতীতে ঘটে যাওয়া সংখ্যালঘুদের ওপর উন্মত্ত জনতার আক্রমণের কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতে ধর্মান্তকরণ ও গরু পাচারের অজুহাতে সংখ্যালঘুদের হেনস্তা ও গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে, যা আমেরিকার জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি বিরূপ মনোভাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ওয়াকফ আইন, সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য ব্যবহৃত ইউএপিএ আইন ও এনজিওগুলিতে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আইনের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই আইনগুলি দিয়ে সারা দেশে অবস্থিত সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

যেসব নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে পাঁচটি ও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি একটি সুপারিশ করা হয়েছে।

এই সুপরিশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘আরএসএস’র ওপর নিষেধাজ্ঞা ও এই প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি।

প্রতিবেদনে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক, সামরিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলিকে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করার সুপরিশ করা হয়েছে। অবশ্য ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনটিকে ‘একপেশে’ বলে অভিযোগ করেছে ভারত। আমেরিকায় ভারতীয়দের ওপর আক্রমণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মার্কিন ওই প্রতিবেদনকে নাকচ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪