ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাব নাকচ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য’ করতে না পারলে শান্তি নয়। তাদের বাধ্য করা হবে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই কর্মকর্তা জানান, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেন মোজতবা খামেনি। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। বৈঠকে তিনি সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাকি ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অন্তত দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। তবে প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত বা কোন দেশগুলো মধ্যস্থতা করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
মোজতবা খামেনি বলেছেন, ‘এটি শান্তির সঠিক সময় নয়। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরাজয় স্বীকার করে, ক্ষতিপূরণ দেয় এবং তাদেরকে নত করা হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ রয়েছে। এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে তার মিত্ররা সাড়া না দেওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাই উচিত।
অন্যদিকে, গত ১৪ মার্চ রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব