| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

কায়রোয় হামাসের সঙ্গে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৮, ২০২৬ ইং | ০০:৩০:২৫:পূর্বাহ্ন  |  ২৯৭৮০২ বার পঠিত
কায়রোয় হামাসের সঙ্গে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যেখানে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ ক্রমশ সংকীর্ণ এলাকায় জীবনের লড়াই চালাচ্ছে, সেখানে অক্টোবরের ‘যুদ্ধবিরতিই’ একমাত্র ভরসা। তবে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ও তেহরানের প্রতিক্রিয়ার কারণে এই ক্ষতিগ্রস্ত বিরতি এখন ভঙ্গুর অবস্থায় পতিত হয়েছে। এর মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ও হামাসের মধ্যে সরাসরি বৈঠক।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত নতুন এই সংস্থা, যা যুদ্ধোত্তর গাজা পরিচালনার জন্য তৈরি; কায়রোয় হামাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আগামী অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।

বৈঠকের পর ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, বুধবার থেকে গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত পারাপার আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। এই সীমান্ত পারাপারই গাজার একমাত্র পথ যা সরাসরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক হুমকির কারণে এটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেও সহিংসতা অব্যাহত আছে। রোববার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুই শিশু, এক গর্ভবতী নারী এবং নয়জন পুলিশ কর্মকর্তা। এটি গাজার ওপর ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বৈঠক হামাসকে বৈধতা দেওয়ার চিহ্ন নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ আকরাবাউই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত বাস্তবতার স্বীকৃতি। গাজায় প্রধান রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক শক্তি হামাস।

তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে কূটনৈতিক বৈঠক রাজনৈতিক স্বীকৃতির সমান নয়। বরং এটি ‘সর্বগ্রাসী’ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত একটি কৌশল। বৈঠকের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে গাজায় একটি নতুন প্রযুক্তিবিদ কমিটি গঠন করা, যা হামাসের অস্ত্রশক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, হামাস সীমান্ত সীমাবদ্ধতা চললে যুদ্ধবিরতি করবে না বলে হুমকি দিয়েছিল। আকরাবাউই এটি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, হামাস সব সময় পূর্ণ যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছে। রাফাহ সীমান্তের পুনঃউদ্বোধন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবের কৌশলগত উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, যেকোনো সুবিধা রাফাহ পারাপার বা ত্রাণ প্রবেশ; সবই বোর্ড অব পিস এবং গাজার নতুন প্রযুক্তিবিদ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি কোনো বৈঠক বা চাপের ফল নয়, বরং কমিটির মাধ্যমে গাজার সমাজে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া।

আঞ্চলিক উত্তেজনার আগে, ট্রাম্পের ২০ পয়েন্ট মধ্যপ্রাচ্য উদ্যোগ আংশিকভাবে গণহত্যা বন্ধ করেছিল এবং কিছু ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি নিশ্চিত করেছিল। বিনিময়ে হামাস একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যা ইসরায়েলকে গাজার অর্ধেক এলাকা দখল করতে দিয়েছে।

কিন্তু পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে হামাসকে অস্ত্র ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি এখনও আটকে আছে। আকরাবাউই বলেছেন, বর্তমান আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে হামাসের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে যাতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন হয়। তবে হামাস এখনও দৃঢ়। তাদের অস্ত্রই ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় গণহত্যার ভয় দেখিয়ে গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যত তৈরি করার চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবতা অপরিবর্তিত। একটি সীমান্ত পারাপারের আংশিক পুনঃউদ্বোধন কোনো কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং একটি নাজুক, ভাঙচুরের মধ্যে থাকা গাজার জন্য সাময়িক শ্বাস-প্রশ্বাসের সুযোগ।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪