স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৬ সালে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অঙ্ক ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে প্রকাশের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমাদের কনফিডেন্স আছে আমরা জিতব। কারণ, আমরা মানুষের সঙ্গে ৩৬৫ দিন থাকি। ওরা (বিজেপি) বসন্তের কোকিল। ভোটের সময় টাকা ছড়ায়। অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এবার যদি আপনারা বর্ডার থেকে বাইরের লোক ঢোকান, বাংলাকে অসম্মান করেন, সেই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।’
দল প্রধান মমতা বলেছেন, ‘দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং– তিনটে আসনে আমরা প্রার্থী দিচ্ছি না। কারণ অনীত থাপার দল ‘ভারতীয় গোর্খা গণতান্ত্রিক মোর্চা’র সাথে বোঝাপড়া আছে। বাকি ২৯১ আসনে লড়াই করছি এবং ২০২৬ এর ভোটে আমরা ২২৬ আসনে জিতব। কারণ এটা বাংলার অস্তিত্বের লড়াই। দিল্লি (বিজেপি) জিতবে না। আমাদের হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন। শুধু একটা ক্ষমতা কাড়তে পারেননি। সেটা হলো মানুষের ক্ষমতা।’
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবার দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে ভোটের লড়াই করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু হুংকার দিয়ে বলেছেন মমতাকে তিনি পরাস্ত করবেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছিলেন মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকে। বিপরীতে ছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হন মমতা। পরে এক উপনির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনে প্রার্থী হয়ে জয় পান মমতা। এবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামেও প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। আবার নন্দীগ্রামে তৃণমূলের বাজি শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ, বিজেপি থেকে এদিনই তৃণমূলে যোগদান করা পবিত্র কর। ফলে ভোটের মাঠে আরও একবার হাইভোল্টেজ লড়াই হবে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম আসনে।
এছাড়া কলকাতা বন্দর থেকে ফিরহাদ হাকিম। কামারহাটি থেকে মমতার প্রিয় মদন মিত্র প্রার্থী হয়েছেন। অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে আরও একবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ব্যারাকপুর আসনে প্রার্থী হয়েছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। বরানগর আসনে প্রার্থী হয়েছেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা। রাজারহাট আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সি।
তবে এবার টিকিট পাননি অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তৃণমূলের টিকিট পাননি ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। তিনি বর্তমান রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া জনপ্রিয় সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতকে খড়দা আসন থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এবার প্রার্থী তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছেন নবীন-প্রবীণ সব নেতাই। রয়েছে কয়েকটি নতুন মুখ। বাদ পড়েছে কয়েকজন বিধায়কের নাম। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেয়েছে ৫০ জন নারী, ৯৫ জন নিম্ন বর্ণের ও ৪৭ জন মুসলিম।
এদিন তালিকা ঘোষণার আগেই মোদির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘লড়াইটা মেঘের আড়াল থেকে লড়ছেন কেন, সামনে থেকে লড়ুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবারেও বিজেপির কোনো সম্ভাবনাই নেই। ওদের আসন এবার আরও কমবে। এটা বাংলার অস্মিতার লড়াই, বিজেপির বিরুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াই।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আপনার যদি গণতন্ত্রে ভরসা থাকে, তাহলে কেন এত ভয় পাচ্ছেন? বর্ডার পার করে লোক ঢোকালে আমরা ছাড়ব না। নির্বাচন কমিশন এর জবাব দেবে। আপনারা ভোটের আগে একটা দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছেন?’
তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, ‘দেখে রাখবেন এবার ২২৬-এর বেশি আসন পেয়ে জিতব।’ তবে এদিন তৃণমূল প্রধান শুভেন্দুকে নিয়ে সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘ভবানীপুর আসন নিয়ে একটা কথা বলব না। আমি প্রার্থী, ব্যাস এইটুকুই বলতে পারি।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব