রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপিএম) ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তিতে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, ৩ লাখ টনের মধ্যে ১ লাখ টন সরবরাহ করবে দুবাইভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এবং বাকি ২ লাখ টন সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস।
মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে নিয়মিত সরবরাহকারীরা পণ্য সরবরাহে সমস্যা করতে পারেন। এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার এই বিশেষ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১২ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) এই কেনাকাটার অনুমোদন দিয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালীতে চলমান সংঘাতের কারণে শিপিং কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম স্থগিত। এই পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসে দেশের ডিজেল সরবরাহ না নিশ্চিত হলে পরিবহন, কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে চলমান বোরো সেচ মৌসুমে সামান্য ঘাটতিও অর্থনীতি ও জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম চালান ২৭ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টন ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এ আগাম ব্যবস্থা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
দুই সরবরাহকারীর মূল্য কাঠামো ভিন্ন। পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক বাজার দর (প্ল্যাটস) অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করবে, কিন্তু এ অ্যান্ড এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস প্রতি ব্যারেলে মাত্র ৭৫ ডলারের স্থির মূল্য প্রস্তাব করেছে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারের ১৪৩–১৭২ ডলারের মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। সরকারের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ অ্যান্ড এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কর্তৃক সরবরাহকৃত ডিজেল সম্ভবত রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত, যা চালানের আগে পশ্চিম এশিয়ার কোনো তৃতীয় দেশে পরিশোধিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি থেকে সম্ভাব্য জটিলতা নিয়েও সরকার কড়া নজর রাখছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কৌশলগত এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য—যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম