আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা তাইওয়ান--এর জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শুক্রবার পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কু বলেন, চীন এখনো শক্তি প্রয়োগের বিকল্প পরিত্যাগ করেনি এবং তাদের সামরিক সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
“চীনের সামরিক বিস্তার এবং আমাদের প্রতি তাদের হুমকি অত্যন্ত গুরুতর,” বলেন তিনি। তার মতে, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সাফল্যের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং আক্রমণের ঝুঁকি নিরুৎসাহিত হবে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে চীন সরাসরি তাইওয়ানে আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনা করছে,এমন কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। বরং তারা বলপ্রয়োগ ছাড়াই দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল অনুসরণ করছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত সামরিক মহড়া চালিয়ে চাপ বাড়িয়েছে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের আপত্তির কারণে তা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, তাইওয়ান ইস্যু তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত “চীন হুমকি” তত্ত্ব প্রচার বন্ধ করা।
এদিকে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি নতুন সাবমেরিন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস থেকে কেনা দুটি সাবমেরিন আধুনিকায়নের কাজ চলছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এসব সাবমেরিন পুরোপুরি প্রস্তুত হলে তাইওয়ানের যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বৈশ্বিক ভূরাজনীতির অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি