আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে রাশিয়া-চীন-তুরস্ক। তিন দেশই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সামরিক উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে “উসকানিমূলক” উল্লেখ করে তা বন্ধ করার দাবি জানান এবং আলোচনার জন্য মস্কোর পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। বেইজিং ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একটি সমন্বিত কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান উভয় পক্ষের হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আঙ্কারা আলোচনার জন্য নিজেদের ভূখণ্ডে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে, এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে।
রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান মিলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব খসড়া করেছে বলে জানা গেছে। এতে শর্তহীন যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময় জোরদার হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। ফলে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে।
এদিকে সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পরবর্তী পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শক্তির পুনর্বিন্যাস এবং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনাগুলোও এই প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ রাশিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, কারণ ইরানের সঙ্গে মস্কোর ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে।
তিন দেশের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে একটি “দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই স্থিতিশীলতা” প্রতিষ্ঠা করা। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপরই জোর দিচ্ছে তারা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি