সিনিয়র রিপোর্টার্র: মজুত আছে, কিন্তু স্বস্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ার আগেই বাংলাদেশে জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’। সরবরাহ এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, তবু আগাম কিনে রাখার প্রবণতাই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে জ্বালানির সংকট এখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল কিনছে, কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
এই অস্বাভাবিক চাহিদাই মূলত সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে।
মজুত কতদিনের?
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বর্তমান হিসাব অনুযায়ী- ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের মজুত, অকটেন প্রায় ৯ দিন, পেট্রল প্রায় ১১ দিন। অর্থাৎ, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এগুলো সংকটজনক নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ‘স্বাভাবিকতা’ এখন অনিশ্চিত।
উল্লেখ্য, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।
চাপের আসল তিন কারণ
বাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে তিনটি বিষয় বাজারকে অস্থির করে তুলছে- জাহাজের সূচি পিছিয়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল ক্রয়।
এই তিনটি একসঙ্গে কাজ করায় মজুত থাকলেও বাজারে ঘাটতির অনুভূতি তৈরি হচ্ছে।
কেন ডিজেল সবচেয়ে ঝুঁকিতে?
বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় অংশই ডিজেলনির্ভর- কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন। তাই ডিজেলের সরবরাহে সামান্য চাপ পড়লেই এর প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো অর্থনীতিতে।
বৈশ্বিক সংকটের ছায়া
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা জ্বালানি সরবরাহে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই নৌপথই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আনার প্রধান রুট। ফলে আমদানি ব্যাহত হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর চাপ পড়া স্বাভাবিক।
বিকল্প পরিকল্পনা কী?
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যে নতুন জাহাজের সূচি চূড়ান্ত করছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যবেক্ষণও জোরদার করেছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ‘মজুত কম’ নয়, বরং ‘আতঙ্ক বেশি। যদি অযথা মজুত করার প্রবণতা বাড়ে, তাহলে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলেও সাবধান করেছেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে