আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজতে পাকিস্তানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার (২৯ মার্চ) ইরান অভিযোগ করে, একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠায়, তাহলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমেরিকা যতদিন ইরানের আত্মসমর্পণ চাইবে, ততদিন আমরা অপমান মেনে নেব না।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানে কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছেন। সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এই বৈঠকের আয়োজন করেছে।এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হাজার হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুটি দলের মধ্যে প্রথমটি একটি অ্যাম্ফিবিয়াস জাহাজে করে পৌঁছেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে বিশেষ বাহিনী ও নিয়মিত পদাতিক সেনা অংশ নিতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ
যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে হামলা শুরু করায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী হয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইরানে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত
যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহরে এক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। পাশাপাশি লেবাননেও হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
উত্তেজনা আরও বাড়ার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তাহলে তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি